প্রচ্ছদ >> মুক্তমত

আনোয়ার হোসেন আর নেই

ঢাকা: বাংলা চলচ্চিত্রের মুকুটহীন সম্রাট, কিংবদন্তি অভিনেতা আনোয়ার হোসেন আর নেই। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দিনগত রাত দু’টায় তিনি মারা গেছেন। (ইন্নালিল্লাহি... রাজিউন)।

দীর্ঘদিন  অসুস্থ ছিলেন জনপ্রিয় এই অভিনেতা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। স্কয়ার হাসপাতালের একজন চিকিৎসক জানান, অভিনেতা আনোয়ার হোসেন স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউ ২নং ইউনিটে ডা. মির্জা নাজিম উদ্দীন হোসেনের অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এদিকে তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে  কলাবাগানের বাসায় ভিড় করেন চলচ্চিত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা আনোয়ার হোসেনকে দেখতে বৃহস্পতিবার রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি অভিনেতা  আনোয়ার হোসেনের চিকিত্সার জন্য তাঁর আত্মীয়-স্বজনের কাছে ১০ লাখ টাকার একটি চেক হস্তান্তর করেন।

আনোয়ার হোসেনের জন্ম ১৯৩১ সালের ৬ নভেম্বর জামালপুর জেলার সরুলিয়া গ্রামে।  তাঁর পিতার নাম নজির হোসেন ও মায়ের নাম সাঈদা খাতুন। নজির-সাঈদা দম্পতির তৃতীয় সন্তান আনোয়ার হোসেন। ১৯৫১ সালে তিনি জামালপুর স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। পরবর্তীতে ভর্তি হন ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজে। স্কুল জীবনে প্রথম অভিনয় করেন আসকার ইবনে সাইকের পদক্ষেপ নাটকে। ১৯৫৭ সালে তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং নাসিমা খানমকে বিয়ে করেন।  ১৯৫৮ সালে চিত্রায়িত ‘তোমার আমার’ চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে অভিনয় জীবনে আসেন বাংলার নবাব।

গত ২০ আগস্ট গুরুতর অসুস্থ অবস্থায়  তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নানা শারীরিক জটিলতা ছাড়াও গল ব্লাডার স্টোন এ আক্রান্ত হয়ে ছিলেন তিনি। পারকিনসন রোগেও তিনি ভুগছিলেন অনেকদিন ধরে।

২০১০ সালে চ্যানেল আই চলচ্চিত্র মেলায় মুকুটহীন নবাব আনোয়ার হোসেনকে আজীবন সম্মাননা দেয়া হয়। ওই বছরেই তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মননা পান।

কয়েক বছর ধরেই অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় ও কিংবদন্তিতুল্য অভিনেতা আনোয়ার হোসেন। অসুস্থ হওয়ার প্রথমদিকে কথা বলতে পারলেও গত পাঁচ-ছয় মাস ধরে বাকশক্তিও হারিয়েছিলেন  তিনি।   

‘নবাব সিরাজদ্দৌলা’, ‘লাঠিয়াল’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘ভাত দে’ দীপ নিভে নাই’ গোলাপী এখন ট্রেনে, সুখের সংসারসহ তিনি পাঁচ শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন। গত ১৮ আগষ্ট তিনি তাঁর দীর্ঘদিনের প্রিয় কর্মস্থল এফডিসিতে শেষবারের মত যান। সেখানে শিল্পী কলাকুশলীদের সঙ্গে কিছু সময় কাটান।  

‘নবাব সিরাজদ্দৌলা’ ছবিতে অভিনয় করে তিনি বাংলার মুকুটহীন সম্রাটে পরিণত হন। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বাচসাস, পাকিস্তানের নিগারসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন গুণী এ অভিনয়শিল্পী। ‘লাঠিয়াল’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান করেন। পরে আরও দুবার তিনি এ সম্মানে ভূষিত হন।

এ ছাড়া ২০১১ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান আসর থেকে আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন গুণী এ শিল্পী। বাংলা চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮৫ সালে একুশে পদকও পান তিনি। আনোয়ার হোসেনের চার ছেলে ও এক মেয়ে। চার ছেলের মধ্যে বড় ছেলে থাকেন সুইডেনে। অন্য তিন ছেলে থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে।

FacebookMySpaceTwitterDiggDeliciousStumbleuponGoogle BookmarksRedditNewsvineTechnoratiLinkedinMixxRSS FeedPinterest
Pin It

ঢাকায় পুলিশের ‘ডিজিটাল কার পার্কিং’

সম্পাদকীয় |  বুধবার, 10 এপ্রিল 2019
আলফা নিউজ ডেস্ক: সচিবালয়ের পাশে আব্দুল গণি রোডে ডিএম...
Read More

দিল্লির রায় 'কঠোর' বার্তা

সম্পাদকীয় |  শুক্রবার, 13 সেপ্টেম্বর 2013
দিল্লির গণধর্ষণ মামলায় ন'মাসের মধ্যে রায় দিয়ে আদালত একট...
Read More

তারেক যেখানেই লুকিয়ে থাকুক, শাস্তি হবে: শেখ হাসিনা

সম্পাদকীয় |  শনিবার, 11 মে 2019
আলফা নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাজ্য সফরের শেষ পর্যায়ে বৃহস্পতিব...
Read More

মসজিদ মন্দিরের উন্নয়নে বরাদ্দ পাচ্ছেন সাংসদরা

সম্পাদকীয় |  বুধবার, 13 সেপ্টেম্বর 2017
আলফা নিউজ ডেস্ক : ‘সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন’ ...
Read More

কম্পিউটারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে নিন

প্রযুক্তি-1 |  সোমবার, 06 জানুয়ারী 2014
বিডিলাইভ ডেস্ক:প্রযুক্তি বিষয়ে কে কতটা দক্ষ বা অজ্ঞ, ...
Read More

শীতের বাহারি পোশাক

লাইফস্টাইল -1 |  মঙ্গলবার, 31 ডিসেম্বর 2013
কনকনে হাওয়া বইতে শুরু করেছে। বাড়ছে শীতের তীব্রতা। ঘরেবা...
Read More
এই বিভাগের সর্বশেষ আপডেট