প্রচ্ছদ >> সম্পাদকীয়

আমার মনে হয়েছে আল্লামা শফী সৎ লোক : তসলিমা নাসরিন

হেফাজতে ইসলামের নেতা আল্লামা শফীর বক্তব্য বেশ আলোচিত হচ্ছে ফেসবুক, ব্লগসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। এ বক্তব্য নিয়ে কথা বলছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ। সম্প্রতি আল্লামা শফীর বক্তব্য নিয়ে ব্লগ লিখেছেন বিতর্কিত প্রবাসী লেখিকা তসলিমা নাসরিন। মুক্তচিন্তা নামের একটা ব্লগ সাইটে তিনি এ বিষয়টি নিয়ে লিখেন। প্রতিমুহূর্ত.কমের পাঠকদের জন্য তার লেখাটি হুবুহ তুলে দেয়া হলো।

মেয়েদের চোখে পুরুষও তো তেঁতুলের মতো
বাংলাদেশ থেকে খুব কমই ফোন আসে। বছরে একটি কিংবা দুটি। মাঝে মাঝে নিজেই আঁতকে উঠি। জন্মেছি, ও দেশেই কাটিয়েছি শৈশব কৈশোর যৌবন। ও দেশেই আছে আত্মীয় স্বজন, খেলার সাথী, ও দেশেই আছে একসময়ের সহপাঠীরা, সহকর্মীরা, লেখক-বন্ধুরা, অনুরাগী পাঠকেরা। দিব্যি ভুলে গেছে সবাই! তা যাক, আমিও ও নিয়ে দুঃখ করতেও অনেকদিন ভুলে গেছি। আজ কিন্তু ফোন আসা বা না আসা নিয়ে লিখতে বসিনি। লিখছি, কারণ বিকেলে একজন ফোন করেছিল দেশ থেকে। মৌলবাদ বিরোধী আন্দোলনে জড়িত। শাহবাগেও ছিল। আমার নিষ্ঠ পাঠক। বন্ধু। বললো, ‘আপনি কিছু লিখছেন না কেন, এই যে মেয়েদের তেতুঁলের সঙ্গে তুলনা করলো আল্লামা শফী’।

আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘আল্লামা শফীটাকে, শুনি?’ কথোপকথনটা তারপর এভাবে এগোলো।
হিফাজতে ইসলামের আমীর।
হিফাজতে ইসলামটা কী?
একটা মৌলবাদী দল। কয়েক লক্ষ লোকের মিছিল নামিয়েছিল ঢাকায়। এখন প্রচুর প্রতিবাদ হচ্ছে তার বক্তব্য নিয়ে। আপনার লেখা মিস করছি। লিখুন।
কেন প্রতিবাদ হচ্ছে? কী বলেছে সে?

জনসভায় বলেছে, 'আপনারা মেয়েদের স্কুল, কলেজ, ভার্সিটিতে লেখাপড়া করাইতেছেন। কেন করাইতেছেন? তাদের ক্লাস ফোর-ফাইভ পর্যন্ত পড়াইবেন যাতে বিবাহ শাদী দিলে স্বামীর টাকা-পয়সার হিসাব রাখতে পারে। আপনার মেয়েকে স্কুল-কলেজ, ভার্সিটিতে পড়াইতেছেন, লাখ লাখ টাকা খরচ করতেছেন। কিছুদিন পর আপনার মেয়ে, নিজে নিজে একটা স্বামী জোগাড় কইরা লাভ ম্যারেজ, কোর্ট ম্যারেজ কইরা চইলা যাবে। আপনার কথা স্মরণ করবে না। মহিলাদের ক্লাসে সামনের দিকে বসানো হয়, পুরুষরা কী লেখাপড়া করবে?' আরও জঘন্য কথা বলেছে।   
যেমন?
বলেছে, ‘আপনার মেয়েকে কেন দিচ্ছেন গার্মেন্টসে কাজ করার জন্য? চাকরি তো অনেকে করতেছেন। আপনি নিজে করতেছেন, আপনার বউ করতেছে, মেয়েরা করতেছে। কিন্তু তারপরওতো পারতেছেন না। খালি অভাব আর অভাব। আগের যুগে শুধু স্বামী রোজগার করত আর সবাই মিইলা খাইত। এখন বরকত নেই। সবাই মিল্লা এত টাকা কামাইয়াও তো কুলাইতে পারতেছেন না।

স্মার্ট হ্যাণ্ডসাম ছেলে দেখলে বরং মেয়েদের লালা আসাটা স্বাভাবিক
গার্মেন্টসে কেন দিচ্ছেন আপনার মেয়েকে? সকাল ৭-৮টায় যায়, রাত ১০-১২টায়ও আসে না। কোন পুরুষের সঙ্গে ঘোরাফেরা করে, তুমি তো জান না। কতজনের সঙ্গে আপনার মেয়ে চলছে তা তো জানেন না। জেনা কইরা টাকা কামাই করতেছে, বরকত থাকবে কেমনে।  মেয়েদের কাজ ঘরের ভেতর। নারীদের ঘরে থাকতে বলেছে ইসলাম। তোমরা জাহিলিয়াতের সময়ের মতো বেপর্দায় ঘর থেকে বাইর হইও না, উলঙ্গ অবস্থায় মাঠে-ঘাটে-হাটে আপনারা মহিলারা মার্কেট করতে যাবে না। স্বামী আছে সন্তান আছে তাদের যাইতে বলবেন। আপনি কেন যাবেন? আপনি স্বামীর ঘরের মধ্যে থাইকা উনার আসবাবপত্র এগুলার হেফাজত করবেন। ছেলে-সন্তান লালন-পালন করবেন। এগুলা আপনার কাজ। আপনি বাইরে কেন যাবেন?’
তাই নাকি?   


বলেছে, ‘জন্মনিয়ণ্ত্রণ কেন করেন? বার্থ কণ্ট্রোল কেন করেন? বার্থ কন্ট্রোল হলো পুরুষদের মরদা থাইকা খাসি কইরা ফেলা। মহিলাদের জন্মদানী সেলাই কইরা দেয়া। এরই নাম বার্থ কন্ট্রোল। বার্থ কন্ট্রোল করলেও ডেথ তো কন্ট্রোল করতে পারবা না। রিজিকের মালিক হচ্ছে আল্লাহ। খাওয়াইব তো উনি। তুমি কেন বার্থ কন্ট্রোল করবা? বড় গুনাহের কাজ এইটা। পারলে চাইরটা পর্যন্ত বিবাহ করবা। খাওয়াইব তো আল্লাহ। বার্থ কন্ট্রোল করবা না। এইটা বড় গুনাহের কাজ’।  

দেশে এত গরিব। আল্লাহ তো ঠিকমতো খাওয়ায় না ওদের। খাওয়ালেও ভালো পুষ্টিকর খাবার, মাছ মাংস এসব তো খাওয়াতে পারে না। ওরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে তবে খাবার যোগাড় করে। আর তা না হলে না খেয়ে মরে। ওদিকে আল্লাহ আবার ধনীদের পাতে খুব সুস্বাদু খাবার ঢেলে দিচ্ছেন। আর কী বলেছে? তেঁতুল টেতুল কী যেন তখন বলছিলে!

2019-05-11-08-17-47আলফা নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাজ্য সফরের শেষ পর্যায়ে বৃহস্পতিবার লন্ডনের তাজ হোটেলে প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে এক সভায় তিনি একথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা বঙ্গবন্ধুর খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি। খুনি ও অর্থপাচারকারীরা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক, যত টাকাই খরচ করুক, তাদের কোনো ক্ষমা নেই এবং জাতি তাদের ক্ষমা করবে না। “আদালত...
     
 
এই বিভাগের সর্বশেষ আপডেট