প্রচ্ছদ >> সম্পাদকীয়

দিল্লির রায় 'কঠোর' বার্তা

দিল্লির গণধর্ষণ মামলায় ন'মাসের মধ্যে রায় দিয়ে আদালত একটা অপরাধীদের কাছে একটা কড়া বার্তা পাঠাতে পেরেছে বলে মনে করছেন পশ্চিমবঙ্গের মহিলারা। সমাজকর্মী, লেখিকা, অধ্যাপিকা বা চিত্র পরিচালক – পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মহিলারা একই সঙ্গে তুলনা টেনেছেন এই রাজ্যের কয়েকটি আলোচিত নারী নির্যাতনের ঘটনার, যে ক্ষেত্রে দ্রুত বিচার পান নি নির্যাতিতা বা তাঁদের পরিবার।

তাঁরা বলছেন, যে পশ্চিমবঙ্গে সবথেকে বেশী নারী নির্যাতন ঘটে, সেখানে অপরাধীদের সাজা সবথেকে কম হয়। মহিলা সমাজকর্মী ও লেখিকা শাশ্বতী ঘোষের কথায়, ''পশ্চিমবঙ্গ শুধু যে নারী নির্যাতনের ঘটনার নিরিখে সবথেকে ওপরে তা নয়। মহিলা নির্যাতনের বিচার এরাজ্যেই সবথেকে কম হয়। এ রাজ্যে রাজনৈতিকভাবে মেয়েদের সহনাগরিক না ভাবা, তারাও যে সমান সুবিচারের অধিকারী, সেটা নিশ্চিত না করার ট্র্যাডিশন চলছেই। খুবই দুর্ভাগ্যজনক এটা।''

চলচ্চিত্র পরিচালিকা অনিন্দিতা সর্বাধিকারীর মতে, শাস্তি না হওয়ায় অপরাধীরা এখন আর ভয় পাচ্ছেন না নির্যাতন করতে।

তিনি বলছিলেন, ''গত দুবছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে মহিলাদের ওপরে নির্যাতনের ঘটনাগুলোতে সাজা হয় নি, প্রশাসন ঘটনাগুলোকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তাই কস্ট অফ ক্রাইম বা অপরাধের শাস্তির কমে গেছে। হঠাৎ করেই সংখ্যাটা সেজন্য বেড়ে গেছে - নতুন করে তো ধর্ষক জন্মায় নি।''

শাশ্বতী ঘোষ বলছিলেন, ''রাজনৈতিক আর সামাজিক অনুশাসনের অভাব পশ্চিমবঙ্গে নারী নির্যাতনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার একটা বড় কারণ। বামপন্থীদের আমল থেকেই সেই রাজনৈতিক-সামাজিক অনুশাসন কমেছে।''

গবেষক ও অধ্যাপিকা রাজশ্রী মুখার্জি বলছিলেন তাঁর নিজের অভিজ্ঞতার কথা – সবসময়ে কীভাবে ভয়ে থাকতে হয় এই কলকাতা শহরের মহিলাদের।

রাজশ্রী কথায়, ''আমার বয়স এখন ৪০-এর কোঠায়। কিন্তু যখন ২২/২৩ ছিল, সেই সময়ে কিন্তু আমি নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারতাম। অথচ আক্রান্ত হওয়ার তো সেটাই বয়স। আর এখন সবসময়ে ভয় থাকতে হয়। বয়স নির্বিশেষে সব মেয়েদেরই আতঙ্কে থাকতে হয়। বেশ রাতে একা ট্যাক্সিতে বাড়ী ফেরার সময়ে খোলা জানলা দিয়ে হাওয়া আসছিল – দারুণ লাগছিল, আমি ফেসবুকে একটা কবিতার লাইন পোস্ট করেছিলাম । কিন্তু আমার বন্ধুরা কবিতাটা উপভোগ না করে চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল আমি ঠিকমতো বাড়ি পৌঁছলাম কী না। অবস্থাটা এতটাই খারাপ।''

কলকাতার বহুল আলোচিত পার্ক স্ট্রীট গণধর্ষণের শিকার সুজেট জর্ডনকে যিনি দীর্ঘদিনের চেষ্টায় সমাজের মূলস্রোতে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন, সেই শান্তশ্রী চৌধুরী নির্যাতনের কারণ বা দোষীদের শাস্তির প্রসঙ্গের বাইরে গিয়ে বলছিলেন নির্যাতিতা মহিলাদের প্রতি সমাজের দায়বদ্ধতার কথা।

মিজ চৌধুরী বলছিলেন, ''এঁদের তো সমাজে আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে। এরা একবার অত্যাচারিতা হয়েছেন। দ্বিতীয়বার নির্যাতিতা হন পুরুষ পুলিশের সামনে অভিযোগ জানাতে গিয়ে। আবার বিচারের সময়েও নির্যাতনের কথা বার বার বলতে হয়। একেবারে ভেঙ্গে পড়েন এরা। তাই খুবই ধৈর্য ধরে এঁদের সমাজে ফিরিয়ে আনাটা একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আর এই ব্যাপারে আমাদের সমাজে সমবেদনার অভাব খুবই লক্ষ্য করা যায়।''

দিল্লির গণধর্ষণ ঘটনার অতিদ্রুত বিচারের পরে যখন রায় হয় মঙ্গলবার, সেদিনই পার্ক স্ট্রীট গণধর্ষণের মামলার শুনানি দিন ছিল, ঘটনার দেড়বছরেও যা শেষ হয় নি।

আর কলকাতার উপকন্ঠে কামদুনি গ্রামে এক কলেজ ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে হত্যার ঘটনারও শুনানী ছিল কলকাতার একটি আদালতে, যেখানে হাজির হওয়া গ্রামের লোকজন এবং নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যদের ওপরে লাঠি চালিয়েছে পুলিশ। সূত্র: বিবিসি

2019-05-11-08-17-47আলফা নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাজ্য সফরের শেষ পর্যায়ে বৃহস্পতিবার লন্ডনের তাজ হোটেলে প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে এক সভায় তিনি একথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা বঙ্গবন্ধুর খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি। খুনি ও অর্থপাচারকারীরা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক, যত টাকাই খরচ করুক, তাদের কোনো ক্ষমা নেই এবং জাতি তাদের ক্ষমা করবে না। “আদালত...
     
 
এই বিভাগের সর্বশেষ আপডেট