প্রচ্ছদ >> সম্পাদকীয়

বাংলাদেশ কি সত্যি বিনিয়োগ সম্ভাবনাময় দেশ

এম এ খালেক
বিশ্ব ব্যাংক তাদের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ ক্ষেত্র হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তুলনামূলক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিনিয়োগের জন্য পূর্ব এশিয়া খুবই ব্যয়বহুল। পাকিস্তান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং ভারত খুবই নিয়ন্ত্রিত একটি দেশ। আফ্রিকার দেশগুলোর উৎপাদনশীলতা কম। এ ক্ষেত্রে চমৎকার এক ব্যতিক্রম হচ্ছে বাংলাদেশ। এতে আরো বলা হয়, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে এবং অন্যান্য নানা অনুকূল সুবিধা বিদ্যমান থাকায় বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগকারিদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্যে পরিণত হতে পারে। গোল্ডম্যান-স্যাকস ২০০৫ সালে প্রকাশিত তাদের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে বিনিয়োগ সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তারা উদীয়মান ১১টি দেশের একটি তালিকা প্রণয়ন করেছে,যা ‘নেক্সড ইলেভেন’ হিসেবে খ্যাত তাতে বাংলাদেশকে অন্যতম দেশ রূপে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তারও আগে অন্য একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিল যে,আগামী কয়েক দশকে বিশ্বের ৩০টি নতুন শিল্পায়িত দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান হবে প্রথম কাতারে। অবশ্য তাদের সেই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের কিছু সমস্যার কথাও বলা হয়েছিল যা অতিক্রম করা না গেলে এই বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো কঠিন হবে। এখন প্রশ্ন হলো,বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্ভাবনা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের ইতিবাচক মন্তেব্যর কারণ কি? তারা কি আমাদের খুশি করার জন্য এমন মন্তব্য করছে? নাকি সত্যি সত্যি বাংলাদেশ একটি বিনিয়োগ সম্ভাবনাময় দেশ? এই প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান করতে হলে আমাদেরকে সার্বিক বিশ্লেষণে যেতে হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং সমস্যাসমূহ খতিয়ে দেখতে হবে।
বাংলাদেশ কার্যত একটি কৃষি প্রধান দেশ। আমাদের দেশের মাটি ও আবহাওয়া যে কোনো ধরনের ফসল উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগি। তাই স্মরণাতীতকাল থেকেই এখানে ফসল উৎপাদিত হয়ে আসছে। কিন্তু ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লব সাধিত হবার পর বিশ্বের বেশির ভাগ অর্থনীতিবিদই একবাক্যে এটা মেনে নেন যে,কৃষি নয় একমাত্র শিল্পের উপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদানের মাধ্যমেই একটি দেশ দ্রুত এবং সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়ন অর্জন করতে পারে। তাই তখন থেকেই বিভিন্ন দেশ উন্নয়নের জন্য শিল্পায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু সব দেশ একই গতিতে শিল্পায়িত হচ্ছে না। এর কারণ হচ্ছে শিল্পায়ন করতে হলে যে সব শর্ত পরিপালন করতে হয় সবাই তা করতে পারেনি। এমন কি কোন্ ধরনের শিল্প একটি দেশের জন্য উপযোগি অনেক সময় তাও আমরা জানি না। ফলে শিল্পায়ন প্রক্রিয়া সেভাবে অগ্রসর হয় নি। বাংলাদেশ যে কোনো বিচারেই শিল্পায়নের জন্য অত্যন্ত উপযোগি একটি দেশ। কিন্তু এখানে কাম্য স্তরে শিল্পায়ন হচ্ছে না। বিশেষ করে অবকাঠামোগত সমস্যা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি শক্তির অপ্রতুলতা, যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ হার এবং ঋণ প্রাপ্তিতে নানা ধরনের জটিলতার কারণে আমাদের দেশে শিল্পায়ন সেভাবে এগুতে পারেনি। বর্তমানে আরো একটি সমস্যা অত্যন্ত প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে তা হলো শিল্প স্থাপনের উপযোগি জমির অভাব। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা শিল্পায়নের পথে একটি প্রকট বাঁধা হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে। একটি প্রকল্প বিনিয়োগ বোর্ডে নিবন্ধন হতে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে অন্তত ৩২ টি অফিসে যেতে হয়। প্রত্যেক অফিসেই কম-বেশি ঘুষ দিতে হয়। আমরা যে কোনো মূল্যেই হোক শিল্পায়ন কামনা করি। কিন্তু এখনো আমরা জানিনা কিভাবে আমরা শিল্পায়িত হতে পারবো? আমাদের শিল্পের ভিত্তি কি হওয়া উচিত সে সম্পর্কেও আমাদের তেমন কোনো ধারণা নেই। বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ। এদের শিল্পায়নের কাঁচামালের ভিত্তি অবশ্যই কৃষি খাত হওয়া উচিত। কৃষি খাত থেকে আমরা যদি শিল্পের উপকরণ বা কাঁচামাল আহরণ করতে পারতাম তাহলে সেই শিল্প আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে অধিক মূল্য সংযোজন করতে পারতো। এ ছাড়া কৃষিকে শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহকারি খাত হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে কৃষির বর্তমান দূরবস্থাও অনেকাংশে কেটে যেতো। বর্তমানে আমাদের দেশের শিল্প বলতে কার্যত আমরা তৈরি পোশাক শিল্পকেই বুঝি। কিন্তু আমরা একবারও কি ভেবে দেখেছি এই শিল্প খাতটি জাতীয় অর্থনীতিতে কেমন অবদান রাখছে? তৈরি পোশাক শিল্প খাত থেকে যে অর্থ আয় হয় তার একটি বড় অংশই কাঁচামাল আমদানি করতেই চলে যায়। ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে এই খাত তুলনামূলকভাবে তেমন একটা অবদান রাখতে পারছে না। এক ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করা হলে জাতীয় অর্থনীতিতে যে মূল্য সংযোজন হবে তার চেয়ে অনেক বেশি মূল্য সংযোজন হতে পারে যদি এক ডলারের চিংড়ি মাছ রপ্তানি করা যায়। কারণ চিংড়ি মাছের জন্য কোনো কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় না। ফলে মোট উপার্জিত অর্থের প্রায় পুরোটাই জাতীয় অর্থনীতিতে মূল্য সংযোজন করে। আমাদের এমন শিল্পের উপর জোর দিতে হবে যা তুলনামূলক বেশি মূল্য সংযোজনকারি। বাংরাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা এবং অন্যান্য চাহিদার বিবেচনায় এমন শিল্পই উপযোগি যা স্বল্প পুঁজিতে স্থাপন করা যেতে পারে। এ েেত্র এসএমই শিল্প স্থাপন করা যেতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক তথা সরকার বর্তমানে এসএমই শিল্প স্থাপনের উপর বিশেষ জোর দিচ্ছে এটা ভালো কথা। আমাদের দেশের স্বার্থেই ুদ্র ও মাঝারি শিল্প স্থাপনের প্রতি জোর দিতে হবে। তার অর্থ এই নয় যে, আমরা বড় শিল্প একেবারেই স্থাপন করবো না বা বড় শিল্পের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করবো। বড় শিল্প অবশ্যই স্থাপন করবো। যাদের সামর্থ্য আছে তারা অবশ্যই বড় শিল্প স্থাপন করবেন কিন্তু ব্যাপক ভিত্তিক ুদ্র ও মাঝারি শিল্প স্থাপনের প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে। স্থানীয়ভাবে ুদ্র ুদ্র শিল্প স্থাপন করা গেলে সেখানে প্রচুর সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে। দেশে যেহেতু বেকার সমস্যা অত্যন্ত প্রকট তাই ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে এই বেকার সমস্যা রোধের চেষ্টা করতে হবে। বিদ্যুৎ,গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মতো শক্তির যোগান নিশ্চিত করতে না পারলে কোনো দিনই দ্রুত এবং কার্যকর শিল্পায়ন সম্ভব নয়। অনেকেই মনে করেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা আমাদের দেশের শিল্পায়ন বা অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এক বিরাট প্রতিবন্ধকতা। কিন্তু আমরা যদি বিশ্লেষণ করি তাহলে এই বক্তব্যের বাস্তবতা তেমন একটা খুঁজে পাওয়া যাবে না। কারণ আমাদের দেশে সাধারণত নির্বাচনের আগের বছর রাজনৈতিক অস্থিরতা বেশি থাকে। কিন্তু বাকি চার বছর তো নিরবিচ্ছিন্ন উৎপাদন বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চলতে পারে। তাহলে আমরা কেনো রাজনৈতিক অস্থিরতাকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে বিরাট প্রতিবন্ধকতা মনে করবো? আমরা যদি প্রত্যেক জেলা শহরে ইপিজেড আদলে শিল্পের স্থানীয়করণ করতে পারি তাহলে স্থানীয় এবং বিদেশি বিনিয়োগকারিরা সেখানে শিল্প স্থাপনের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়বে। দেশের বিভিন্ন স্থানে যে ক’টি ইপিজেড আছে সেখানেও বিদেশি বিনিয়োগকারিদের স্থান সংকুলান করা সম্ভব হচ্ছে না। এটা নিশ্চিত করেই বলা যায় যে,যদি আমরা জ্বালানি,বিদ্যুৎ,গ্যাস ইত্যাদি অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করতে পারি এবং শিল্প স্থাপনের জন্য উপযুক্ত জমির ব্যবস্থা করতে পারি তাহলে আমাদের দেশ স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারিদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠবে। কারণ বাংলাদেশ আয়তনে ুদ্র একটি দেশ হলেও আর বিনিয়োগ সম্ভাবনা কোনভাবেই উপেক্ষা করার মতো নয়।  
এখন প্রশ্ন হলো,বাংলাদেশে এমন কি আছে যা দেখে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারিরা হুমড়ি খেয়ে পড়বে?বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে এর বিশাল জনগোষ্ঠী। বাংলাদেশে প্রায় ১৬ কোটি মানুষের বসবাস। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে আমরা বরাবরই আপদ হিসেবে দেখে অভ্যস্থ। আমরা মনে করি,অতিরিক্ত জনসংখ্যা মানেই হচ্ছে অতিরিক্ত বিপদ। অতীতে কোনো এক সরকার আমলে দেশের অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে ‘এক নম্বর জাতীয় সমস্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। কিন্তু একবারও ভেবে দেখা হয় নি জনসংখ্যা তা কাম্যস্তরেই থাকুক আর অতিরিক্তই হোক কখনোই এক নম্বর জাতীয় সমস্যা হতে পারে না। জনসংখ্যা এমনই উৎপাদন উপকরণ যা অপরিকল্পিতভাবে ফেলে রাখলে জাতীয় সমস্যা বা জাতির জন্য বিপদ বলে গণ্য হতে পারে। আবার সেই জনসংখ্যাকে যদি প্রশিতি করে তোলা যায় তাহলে তা জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদে পরিণত হতে পারে। বর্তমানে যারা বেকারত্বের কষাঘাত থেকে মুক্তি পাবার জন্য বিদেশে কর্মসংস্থান করছেন তারা কি জাতির জন্য সম্পদ, নাকি আপদ? গত বছরও প্রবাসী বাংলাদেশিরা ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সম পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে প্রেরণ করেছে। বর্তমানে আমাদের দেশে রেকর্ড পরিমাণ রিজার্ভ সংরতি রয়েছে। এর পেছনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান সবচেয়ে বেশি। কাজেই কোনোভাবেই জনসংখ্যাকে সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করার অবকাশ নেই। জনসংখ্যা সমস্যা নয়,সমস্যা হচ্ছে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করার েেত্র আমাদের সীমাহীন ব্যর্থতা। এ জন্য জনসংখ্যাকে দায়ি করা চলে না। বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠীই হচ্ছে শিল্পায়নের সবচেয়ে বড় উপকরণ। পৃথিবীতে খুব কম দেশই আছে যেখানে আমাদের মতো এত বিশাল জনগোষ্ঠী রয়েছে। আমাদের দেশে যে পরিমাণ জনসংখ্যা রয়েছে তাতে আগামী বহু বছর এখানে শ্রম শ্রক্তির অবাব হবার কথা নয়। অর্থাৎ আমরা আগামীতেও এখনকার মতোই সস্তা শ্রমের যোগান পাবো। সস্তা শ্রমের যোগান থাকাটা যদিও শিল্পায়নের একমাত্র পূর্বশর্ত নয় তবু এটা শিল্পায়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখ্য,আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিযোগি চীন বিশ্বের সর্বাধিক জনসংখ্যা অধ্যুষিত একটি দেশ হওয়া সত্ত্বেও তারা এখন শ্রমিক সমস্যায় পতিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে চীনে শ্রমিকের মজুরি ৪গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে চীন এখন ‘লোয়ার এন্ড’ তৈরি পোশাক উৎপাদন বাদ দিয়ে ‘হাই এন্ড’ পোশাক তৈরির প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। আগামীতেও আমাদের দেশে শ্রমিকের মজুরি এতটা বৃদ্ধি পাবার কোনো সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বাংলাদেশের এই সস্তা শ্রমিক ব্যবহার করার জন্য অনেক দেশের উদ্যোক্তারাই আগ্রহী হবে। বাংলাদেশ ষোল কোটি মানুষের দেশ। বিশ্বের অনেক দেশেই এত বিশাল জনগোষ্ঠী নেই। আমাদের রয়েছে একটি বড় ধরনের বাজার। উন্নত বিশ্বের এমন অনেক দেশ আছে যেখানে তিন/চারটি দেশ মিলেও বাংলাদেশের সমান জনসংখ্যা নেই। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন চাহিদা পূরণের জন্য প্রচুর পরিমাণ পণ্য ও সেবার প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশের মানুষের আর্থিক দীনতা থাকতে পারে কিন্তু তারা ভোগ ব্যয়ের েেত্র কারো চেয়ে কম নয়। এমন কি অনেক উন্নত দেশের মানুষের চেয়েও আমাদের দেশের মানুষের ভোগ প্রবণতা বেশি। বাংলাদেশের গ্রামগুলো সাধারণ চিত্র এখন অনেকটাই পাল্টে গেছে। এখন গ্রাম আর আগের গ্রামের মতো নেই। গ্রামের সাধারণ গরিব মানুষের হাতেও মোবাইল ফোন অথবা বাড়িতে ফ্রিজ টেলিভিশন দেখা যায়। বাংলাদেশে প্রতি বছর যে পরিমাণ মোটর গাড়ি বিক্রি হয় অনেক উন্নত দেশেও তা হয় না।
বাংলাদেশে যে কোনো পণ্যের উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলকভাবে অনেক কম। আমাদের এখানে রাজনৈতিক কিছুটা অস্থিরতা মাঝে মাঝে সৃষ্টি হলেও এখানে কোনো জাতিগত সংঘাত নেই। ফলে নিরবিচ্ছিন্ন উৎপাদন কার্য পরিচালনার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে শিল্পায়নের পেছনে অন্যতম বড় একটি ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করতে পারে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কর্তৃক দেয়া নানা ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে বাণিজ্য েেত্র জিএসপি সুবিধা প্রদান করে থাকে। জিএসপি সুবিধার আওতায় বাংলাদেশ এসব দেশ ও অঞ্চলে বিনা শুল্কে পণ্য রপ্তানির সুযোগ পায়। একজন উদ্যোক্তা যদি চীনে একটি পণ্য উৎপাদন করে তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বিক্রি করতে চায় তাহলে তাকে ১২ শতাংশ হারে শুল্ক প্রদান করতে হবে। কিন্তু সেই একই উদ্যোক্তা যদি বাংলাদেশে পণ্য উৎপাদন করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে বাজারজাত করে তাহলে তাকে কোনো শুল্ক দিতে হবে না। আগামী ১০ বছরের মধ্যে শিল্পায়িত অনেক দেশেই শ্রমিকের সঙ্কট দেখা দেবে। কিন্তু বাংলাদেশে এ ধরনের শ্রমিক সঙ্কটের কোনোই আশঙ্কা নেই। অনেক দেশ আছে যেখানে শিল্প স্থাপন করলে রপ্তানির ল্েয তা করতে হয়। কারণ স্থানীয়ভাবে ভোক্তা পাওয়া যায় না। কিন্তুু বাংলাদেশে কোনো একটি শিল্প স্থানীয় ভোক্তাদের উদ্দেশ্য করে স্থাপন করা হলেও তা টিকে থাকতে পারে। বাংলাদেশের মানুষের ভোগ প্রবণতা দিন দিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটা শিল্প সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। যে কোনো বিচারেই বাংলাদেশের শিল্প সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য আমাদের পরিকল্পিতভাবে এগুতে হবে। অন্যথায় আমরা পিছিয়ে পড়বো। প্রতিযোগি দেশগুলো আমাদের জন্য বসে থাকবে না। তাই আমাদের এখনই পরিকল্পনা নিতে হবে কিভাবে দেশকে শিল্পায়িত করবো।

2019-08-03-04-56-03 আলফা নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশ সকল সম্ভাবনা ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) বিকেলে লন্ডন থেকে টেলি-কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে বাংলাদেশ কৃষক লীগের রক্তদান কর্মসূচি ও বৃক্ষরোপণ অভিযান উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের...
     
 
এই বিভাগের সর্বশেষ আপডেট