প্রচ্ছদ >> সম্পাদকীয়

বুলবুল মোকাবেলায় সেনা-পুলিশের তৎপরতা

আলফা নিউজ ডেস্ক:ঘূর্ণিঝড় ও পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবেলায় পুলিশও রয়েছে মাঠে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুল উপকূলে আঘাত হানার আগে ১০ নম্বর মহাবিপদ সঙ্কেত জারির পরপরই প্রস্তুতি নেয় সশস্ত্র বাহিনী। ঝড়ের কবলে পড়া তিন শতাধিক জেলেকে গত শনিবার মধ্যরাতে উদ্ধার করে নোয়াখালীর ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য করা অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে ঠাঁই দেয় নৌ বাহিনী। এদিকে যে সব জেলেকে উদ্ধার করা হয়, তাদের নৌবাহিনী কর্তৃক নির্মিত ব আশ্রয় কেন্দ্রে স্থনান্তর ছাড়াও সেখানে আরও তিন হাজারেরও বেশি জেলে অবস্থান নেন বলে জানানো হয়েছে। ‘বুলবুল’র পরিস্থিতি তদারকির জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় ও ত্রাণ তৎপরতা মনিটরিং সেল’ ২৪ ঘণ্টা সচল রয়েছে বলে রোববার আইএসপিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এতে বলা হয়, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের অনুরোধে যশোর থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১২০ সদস্যের ১টি উদ্ধারকারী দল প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী ও যানবাহন নিয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগড়ে মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় জনগণকে আশ্রয় কেন্দ্রে স্থানান্তরে সহায়তা করা ছাড়াও সেনাবাহিনীর সকল ব্রিগেড/ডিভিশনসমূহ স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাতক্ষীরা জেলার গাবুড়া ইউনিয়নের স্থানীয় জনগণকে গাবুড়া থেকে নীল ডুমুর এলাকায় স্থানান্তর এবং আশ্রয় কেন্দ্রে স্থানান্তরে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা দেয় নৌবাহিনীর সদস্যরা। নৌবাহিনীর চারটি জাহাজ (বিএনএস কর্ণফুলী, তিস্তা, পদ্মা ও এলসিভিপি ০১১) দুর্যোগ পরবর্তী রোববার থেকে হিরণ পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকায় অনুসন্ধান অভিযান পরিচালনা করবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর ৭ পদাতিক ডিভিশন, শেখ হাসিনা সেনানিবাস ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ পরবর্তী উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে বরিশাল, পটুয়াখালী, বাগেরহাট, পিরোজপুর ও ঝালকাঠি এ ৫টি জেলার সব উপজেলায় সেনাসদস্য মোতায়েন করছে। নৌবাহিনীর চারটি কন্টিনজেন্ট ও চিকিৎসা সহায়তাকারী দলও মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের চাহিদা অনুসারে প্রয়োজনীয় সম্ভাব্য উদ্ধার সামগ্রী এবং নৌপথে উদ্ধার তৎপরতা চালানোর লক্ষ্যে বিশেষ ধরণের নৌযান ‘ট্রাই শার্ক’ বোট প্রস্তত রাখা আছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের আনুমানিক ২০০০ সেনাসদস্যকে ১৫টি দলে বিভক্ত করে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৫টি চিকিৎসা সহায়তা প্রদানকারী দল, ৭৫০০টি শুকনা খাবারের প্যাকেট ৩টি পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্ট এবং উদ্ধারকার্য সম্পাদনের জন্য ৪৫টি ট্রাইশাক বোট যশোর সেনানিবাসে প্রস্তুত রয়েছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে দুর্যোগ পরবর্তী সহায়তার জন্য ওষুধ সামগ্রী, খাবার পানি, শুকনো খাবার জরুরি প্রয়োজনে বিতরণ করবে। বিমান বাহিনী হেলিকপ্টার/ফিক্সড উইং এয়ার ক্রাফট দুর্যোগ পরবর্তী রেকি ও যে কোনো জরুরি মিশনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলেই বিমান বাহিনী দুর্গত এলাকার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য পর্যবেক্ষণ মিশন পরিচালনা করবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। উদ্ধার কাজে পুলিশ ঘূর্ণিঝড় বুলবুল পরবর্তী নানা ধরনের উদ্ধার কাজ পুলিশ চালাচ্ছে বলে বাহিনীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।ঘূর্ণিঝড় বুলবুল অতিক্রমের সাথে সাথেই সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ সদস্যরা তাদের নির্ধারিত কাজ শুরু করে। এসব কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ভেঙে যাওয়া গাছ অপসারণ, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর মেরামত, ঘূর্ণিঝড় কবলিত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বণ্টন, সাধারণ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে পুনরায় বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া, আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা ও সড়ক মেরামতর কাজ করছেন তারা। পাশাপাশি দুর্যোগকালীন সময়ে কোনো দুষ্কৃতকারী যেন অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে, সেদিকেও দৃষ্টি রাখছে পুলিশ।বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
এই বিভাগের সর্বশেষ আপডেট