প্রচ্ছদ >> সারাদেশ

ভালো নেই ভোলার হরিণ

ভালো নেই উপকূলীয় জেলা ভোলার বনের হরিণ। একদিকে বণ্যপ্রাণী শিকারি ও অপরদিকে জোয়ারের পানির কারনে বড় বিপদে রয়েছে এখানকার হরিণগুলো।

গত ৯ জুলাই জোয়ারের পানিতে জেলার মনপুরা উপজেলার সাকুচিয়া ইউনিয়নের একটি হরিনের মৃত্যু হলেও জোয়ারের পানিতে নয় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হরিণটি মারা গেছে বলে জানান স্থানীয় বন বিভাগ। অপরদিকে একশ্রেনীর লোভি বণ্যপ্রাণী শিকারির দল হরিণ শিকার করে বনের হরিণ ধ্বংস করছে। এতে ক্রমেই কমে আচ্ছে এ এলাকার বনাঞ্চলের হরিণ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ বন বিভাগ এসব হরিণের খোঁজ খবর না রাখার কারনে কিংবা সংরক্ষনের ব্যবস্থা না নেওয়ায় মরে যাচ্ছে এ এলাকার বনের হরিণ। তারা মনে করছেন এ ব্যাপারে এখুনি পদক্ষে না নিলে এক সময়ে প্রায় হারিয়ে যাবে বনাঞ্চলের হরিণ। প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে হরিণ কিংবা হরিনের চামড়া উদ্ধার করলেও বণ্যপ্রাণী শিকারিদেরে ধরতে পারছেনা।  

এদিকে শনিবার বিকেলে ভোলা দক্ষিণ জোনের কোস্টগার্ড সদস্যরা অভিযান চালিয়ে চর দুয়ানী ধলেশ্বর নদীর মোহনা থেকে ১৫ কেজি হরিণের মাংস ও দুইটি হরিণের চামড়া উদ্ধার করেছে।  

কোস্ট গার্ড ভোলা দক্ষিণ জোনের লেঃ বিএন এম রাহাতুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্টেশন কমান্ডার লেঃ এস এ আহসানের নেতৃত্বে কোস্ট গার্ডের একটি দল ওই অভিযান চালায়। এ সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে বন্যপ্রাণী শিকারিরা পালিয়ে যায়। ফলে তাদেরকে ধরা সম্ভব হয়নি। পরে জব্দকৃত হরিণের মাংস ও চামড়া স্থানীয় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।            

মনপুরার জেলে রফিকুল ইসলাম, শফিক মাঝিসহ স্থানীয় জেলেরা জানান, অনেক সময় তাদের জালে কখনো জীবিত আবার কখনো মৃত হরিণ আটকা পড়ে। এক শ্রেনীর জেলেরাও হরিণ শিকারের সাথে জড়িত রয়েছে বলে জানান তারা।  

অতি জোয়ারের পানি বৃদ্ধির কারনে মনপুরায় একটি হরিণের মৃত্যু হয়েছে এবং অনেক হরিণ ভেসে আসার কথা স্বীকার করে বন বিভাগের মনপুরা রেঞ্জ কর্মকর্তা শফিকুল আলম বলেন, এসব হরিণ মনপুরা বনাঞ্চলের নয়। এগুলো নোয়াখালীর ঢালচরের বনাঞ্চল থেকে ভেসে আসছে।

এ ব্যাপারে ভোলার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, হরিণ সংরক্ষনের আলাদা বরাদ্দ দেওয়ার জন্য চিঠি লিখলেও তা বাস্তবায়িত হচ্ছেনা। তিনি আরো বলেন, বনের মধ্যে মাটির কিল্লা নির্মান ও পুকুর খননের প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখনো অনুমোদন আসেনি। তারপরও বন কর্মকর্তারা নিজেদের সামর্থ অনুযায়ী বণ্যপ্রাণী সংরক্ষনের চেষ্টা করছেন।

এই বিভাগের সর্বশেষ আপডেট