প্রচ্ছদ >> সারাদেশ

জোরপূর্বক স্কুল ছাত্রীর পর্নোছবি মোবাইলে

বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা প্রত্যন্ত পল্লীতে এক স্কুল ছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে জোরপূর্বক বিবস্ত্র করে পর্নো ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ করে তা প্রদর্শন ও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকিতে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এ ঘটনায় ওই এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
 সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, আদমদীঘি উপজেলার চাঁপাপুর ইউনিয়নের ভেনলা গ্রামের বিনয় চন্দ্র বর্মনের ছেলে বখাটে যুবক বিধান বর্মন (১৮) ও দর্শন চন্দ্র বর্মনের ছেলে বখাটে যুবক কমল বর্মন (১৭) গত ১৩ জুলাই সন্ধ্যার পূর্বে একই গ্রামের ৯ম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীকে জোরপূর্বক রাস্তা থেকে আটক করে বাড়ির পাশে কলা বাগানে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিবস্ত্র করে পর্নো ছবি তাদের মোবাইল ফোনে ধারণ করে। এরপর ধারণ করা পর্নো ছবি তাদের বন্ধু পাশের মিতইল গ্রামের প্রসজিৎ (২১) ও গোলক (২০) এর মোবাইল ফোনে পার করে দেয়। পরে ওই বখাটে যুবক প্রসজিৎ ও গোলক ওই ছাত্রীর বাবা গেদু বর্মনের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। তারা হুমকি দিয়ে বলে টাকা না দিলে তার মেয়ের পর্নো ছবি ইন্টারনেটে ছাড়িয়ে দিবে। এ ঘটনাটি ওই এলাকায় জানাজানি হলে গত বৃহস্পতিবার রাতে মিতইল গ্রামের সাবেক ইউপি মেম্বার সুশিল বর্মনের বাড়িতে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে একটি মহল বৈঠক বসায়। ওই বৈঠকে কোন সুরাহা না হওয়ায় পরদিন ১৯ জুলাই শুক্রবার এই বিষয়টি আরো ব্যাপক হারে প্রচার ঘটে। এ দিকে ঘটনাটি প্রকাশ হবার পর থেকে বখাটে ওই ৪ যুবক এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে।
 গতকাল শনিবার সকালে ওই এলাকায় গিয়ে জানা যায়, ভেনলা গ্রামের ওই ছাত্রীর বাবা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও পরিবারের ইজ্জতের চিন্তা ও কতিপয় চিহিৃত সন্ত্রীদের ভয়ভীতির কারণে ঝামেলায় জড়াতে চান না। এ বিষয়ে মিতইল গ্রামের ইউপি মেম্বার ইসমাইল হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি সে শুনেছেন এবং তদন্ত করে দোষীদের আইনগত ব্যবস্থা করা হবে। অপর দিকে ইউপি চেয়ারম্যান এডঃ শামছুল হকের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান ঘটনাটি শুনেছেন তবে কেউ এখনও পযর্ন্ত তার কাছে কোন অভিযোগ করেনি। এ ব্যাপারে আদমদীঘি থানার কর্মকর্তা ইনর্চাজ তোজাম্মেল হক জানান এ বিষয়ে অভিযোগ এলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই বিভাগের সর্বশেষ আপডেট