প্রচ্ছদ >> সারাদেশ

৮১৯ কোটি টাকায় ১০১ থানা ভবন

আট শ’ ১৯ কোটি টাকায় ১০১টি থানার নতুন ভবন নির্মান করা হবে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিপি) অর্থায়নে পর্যায়ক্রমে থানা ভবনগুলো নির্মিত হবে।

এর মধ্যে  রাজধানীর ২৩ থানা, সিএমপি’র বন্দর থানা এবং আরএমপি’র শাহমাখদুম থানাও রয়েছে। বাকি ৭৬ টি থানা দেশের ৩৯ জেলায় অবস্থিত।

সুন্দর পরিবেশে সেবা দেয়া ও সেবা গ্রহণের জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়নে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার।

থানা ভবনগুলোর ভেতরে এবং বাইরের পরিবেশ হবে আধুনিকতায় সাজানো। পুলিশ সদর দফতর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিপি) অর্থায়নে ৮১৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘পুলিশ বিভাগের ১০১টি থানা ভবন টাইপ প্ল্যানে নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় থানা ভবনগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে। এরমধ্যে ভোলার তজুমদ্দিন ও লালমোহন থানা ভবন নির্মানের টেন্ডার চূড়ান্ত করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, উল্লেখিত প্রকল্পের আওতায় মেট্টোপলিটান শহরের থানাগুলো আটতলা ফাউন্ডেশন দিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে ছয় তলা নির্মাণ করা হবে। অপরদিকে গ্রামাঞ্চলের থানাগুলো ছয়তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে চারতলা থানা ভবন নির্মাণ করা হবে।

নতুন নির্মিত থানা ভবনে থাকবে মনোরম পরিবেশের সার্ভিস ডেলিভারি অফিসার রুম। এ রুমে অভ্যর্থনা জানিয়ে বক্তব্য শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে সেবার জন্য আসা লোকজনকে।

সাব-ইন্সপেক্টরদের কাজের জন্য থাকবে ওয়ার্কস্টেশন। এখানেও তারা মনোরম পরিবেশ পাবেন। প্রত্যেকেই পাবেন চেয়ার, টেবিল ও  কম্পিউটার। থাইগ্লাস দিয়ে সাজানো হবে ওয়ার্কস্টেশনের কর্মপরিবেশ।

নতুন নির্মিত থানা ভবনগুলোর প্রত্যেকটি চারটি হাজতখানা থাকবে। এর মধ্যে একটি পুরুষ হাজতখানা, একটি মহিলা হাজতখানা, একটি কিশোর হাজতখানা ও একটি কিশোরী হাজতখানা।

থানায় জব্দকৃত মালামাল সুরক্ষিত রাখতে থাকবে নিরাপদ মালখানা । এছাড়া প্রত্যেক থানা ভবনেই লিফটের ব্যবস্থা থাকবে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পের মেয়াদ জুলাই ২০১২ সাল থেকে জুলাই ২০১৫ সাল। প্রথম বছরে পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। চলতি বছরে ৪৫ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। এ টাকা দিয়েই কাজ শুরু করা হয়েছে। বরাদ্দকৃত টাকা দ্রুত না দিলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না। আগামী বছরে ১০০ কোটি টাকা নেওয়ার চেষ্টা করবে সরকার।

ডিএমডির নির্মাণ আওতাধীন থানাগুলো হলো হাজারীবাগ, কামরাঙ্গীরচর, কদমতলী, আদাবর, শাহআলী, পল্লবী, দারুস সালাম, কাফরুল, দক্ষিণখান, উত্তরখান, বংশাল, ধানমন্ডি, সবুজবাগ, মতিঝিল, খিলগাঁও, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, খিলক্ষেত, তুরাগ, শ্যামপুর, গুলশান, ডেমরা, লালবাগ এবং ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ।

এছাড়া গাজীপুর জেলার টঙ্গী, কাপাসিয়া, মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং, নরসিংদী জেলার মনোহরদী, টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর ও ধনবাড়ি, কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর ও পাকুন্দিয়া, শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতি, ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা, গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া ও গোপালগঞ্জ সদর, মাদারীপুর জেলার রাজৈর ও কালকিনি, কক্সবাজার জেলার টেকনাফ ও চকরিয়া, রাঙ্গামাটি জেলার চন্দ্রঘোনা ও কাউখালী, ননিয়ারচর, বান্দরবান জেলার লামা ও ধানছি, খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি, লক্ষীছড়ি ও রামগড় এবং চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটানের বন্দর থানা।

ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার  সরাইল, কসবা, আখাউড়া, নাসিরনগর ও বিজয়নগর থানা। কুমিল্লা জেলার চান্দিনা, হোমনা ও বুড়িচং থানা, চাঁদপুর জেলার চাঁদপুর মডেল থানা, নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ ও সেনবাগ থানা, রাজশাহী জেলার পবা থানা, পাবনা জেলার বেড়া, ফরিদপুর, ঈশ্বরদী, ভাঙ্গুরা ও সুজানগর থানা।

সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ থানা, নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর থানা, গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি ও সাঘাটা, কুড়িগ্রাম জেলার কুড়িগ্রাম সদর, চুষমারা নৌথানা, কচাকাটা ও নাগেশ্বরী থানা, লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা থানা, চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানা, বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর থানা, রাজশাহী মেট্টোপলিটানের শাহমাখদু থানা, খুলনা জেলার কয়রা, তেরখাদা ও দাকোপ থানা।

সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা থানা, বাগেরহাট জেলার মংলা, ফকিরহাট, চিতলমারী, শরণখোলা ও মোল্লারহাট থানা, কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থানা, নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানা, ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর থানা,

পটুয়াখালী জেলার বাউফল থানা, বড়গুনা জেলার আমতলী থানা, ভোলা জেলার লালমোহন, দৌলতখান ও তজুমদ্দিন থানা, সিলেট জেলার ওসমানী নগর থানা।

হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ থানা, সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর ও দক্ষিণসুনামগঞ্জ ও দোয়ারাবাজার থানা এবং মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা ও জুড়ি থানা ভবন নির্মানের কাজ শুরু হয়েছে।

এই বিভাগের সর্বশেষ আপডেট