প্রচ্ছদ >> সারাদেশ

যমুনার ভাঙনে হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন

ঢাকা: যমুনা নদীর ভাঙনে টাঙ্গাইল জেলার দুটো গ্রাম প্রায় পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে। আরো দুটো গ্রাম ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে। চলতি সপ্তাহেই উদ্বোধন করা হয়েছে এমন একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও বুধবার নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, ভাঙনের ব্যাপকতায় তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। অন্যদিকে ত্রাণ মিলছে না বলে জানাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ঘটনা সরেজমিনে দেখে ত্রাণ বিতরণসহ যথাযথ উদ্যোগ তারা নিতে শুরু করেছেন ।

টাঙ্গাইলের গোপালপুর এবং জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, ভাঙনের কারণে গত ক'দিনে ঘর-বাড়ি ফেলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে এসে আশ্রয় নিয়েছেন বহু মানুষ। তারা পুনর্বাসন এবং ঘর বাড়ি নির্মাণের জন্য ত্রাণ সামগ্রী দেয়ার দাবি তুলেছেন।

ভাঙনের শিকার সোনামুই গ্রামে কয়েক লাখ টাকা খরচ করে নির্মিত একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্বোধন করা হয়েছিল গত সোমবার। সেটি বুধবারই নদীগর্ভে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

এদিকে জেলা প্রশাসন বলছে, বৃহস্পতিবার থেকে তারা ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছেন।

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার চেয়ারম্যান ইউনূস ইসলাম তালুকদার জানান, চারটি গ্রাম মূলত আক্রান্ত হয়েছে, তার মধ্যে কবলিবাড়ি চর পুরোটা এবং চর সোনামুই'র ৯০% নদীতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া রাধানগর এবং বাশুরিয়া নামে দুটো গ্রামও মারাত্মকভাবে ভাঙনের মুখে রয়েছে।

স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, এলাকাটিকে ঘিরে নদী ভাঙন গত বছর থেকে ব্যাপক রূপ নেয়। ভাঙনের কারণে গত ক'দিনে ঘর-বাড়ি ফেলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে এসে আশ্রয় নিয়েছেন অনেকেই।

এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয় টেলিফোনে।

আব্দুল কাদের জানান, “খালি আমার না বহু মানুষের অবস্থা এমন। একদিকে পানিবন্দী আরেক দিকে বাড়িঘর ভাইংগা গেছে। আমরা খুব কঠিন অবস্থায় আছি। টিউবয়েল, পায়খানা, পাকের ঘর কিছুই আনতে পারি নাই। কেউ কেউ হয়তো থাকার ঘরটা কোনওরকমে ভাইংগা আনতে পারছে।”

মো. জামাদ আলী নামে আরেকজন জানান, আরো কয়েকশো লোকের মত পরিবারের ১২ জন সদস্যকে নিয়ে তিনি শহররক্ষা বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ কেউ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে চলে গেছেন।

তিনি জানান, তারা রাস্তার পাশে চুলা জ্বালিয়ে কিংবা আশেপাশের আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিত লোকজনের বাড়ি থেকে খাবার-দাবার আনার ব্যবস্থা করছেন।

গোপালপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ইউনূস ইসলাম তালুকদার বলছিলেন, স্থানীয় বাঁধ রক্ষায় দ্রুত মনোযোগী না হলে পুরো জেলার জন্যই তা আশঙ্কাজনক হয়ে উঠবে।

তিনি বলেন, “গত বছর থেকে ভাঙনটা ব্যাপক রূপ নিলে আমরা রোডস অ্যান্ড হাইওয়েজ, পানি উন্নয়ন বোর্ড সবাইকে বলেছি এই বাঁধ রক্ষায় মনোযোগ দিতে। এই বাঁধের ওপর দিয়ে যমুনা সার কারখানার হাজার হাজার গাড়ি চলাচল করে। যে কোনও মুহুর্তে এই বাঁধ ভেঙে গেলে টাঙ্গাইল জেলা শহর হুমকির মুখে পড়বে। কিন্তু দু:খের বিষয় এবছর এখন পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনও কর্মকর্তা সেখানে যাননি।”

এদিকে জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান জানান, নতুন করে কোনও কোনও এলাকা থেকে নদী ভাঙনের খবর তারাও পাচ্ছেন। তিনি বলেন, যমুনা নদীর চরিত্র অনুসারে তারা দেখেছেন প্রতিবছরই ওই এলাকায় নদী ভাঙনের ঘটনা ঘটে থাকে। তবে এবছর তা ব্যাপক রূপ নিয়েছে। সূত্র: বিবিসি।

FacebookMySpaceTwitterDiggDeliciousStumbleuponGoogle BookmarksRedditNewsvineTechnoratiLinkedinMixxRSS FeedPinterest
Pin It

বরিশালে মায়ের হাতে পুত্র খুন

সম্পাদকীয় |  শনিবার, 14 সেপ্টেম্বর 2013
ঢাকা: মাদকাসক্ত পুত্রের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে খাবারের সা...
Read More

ভোগ নয়, ত্যাগ করতে হবে: যুবলীগকে শেখ হাসিনা

সম্পাদকীয় |  রবিবার, 24 নভেম্বর 2019
আলফা নিউজ ডেস্ক:তিনি বলেছেন, “আমাদের সবাইকে এ কথাটা মনে...
Read More

দুই বছরের প্রকল্পের ‘অর্ধেক হয়নি’ চার বছরে

সম্পাদকীয় |  রবিবার, 08 জুলাই 2018
আলফা নিউজ ডেস্ক:হাতিরঝিল প্রকল্পের ধারাবাহিকতায় জলাশয় র...
Read More

মাহমুদুর রহমানকে নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে

মুক্তমত-1 |  বৃহস্পতিবার, 12 সেপ্টেম্বর 2013
স্টাফ রিপোর্টার: দেশে ফিরেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইন...
Read More

অধ্যক্ষ সিরাজের নির্দেশে পুড়িয়ে মারার পরিকল্পনা শামীমের

লাইফস্টাইল -1 |  শনিবার, 13 এপ্রিল 2019
আলফা নিউজ ডেস্ক:তিনি বলেন, ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী বোরখা...
Read More

ওয়েস্টার্ন লুক

লাইফস্টাইল -1 |  বুধবার, 17 জুলাই 2013
শাড়ি বা সালোয়ার কামিজ তো সবসময়ই পড়া হয়, নিজের আউট লুকট...
Read More
এই বিভাগের সর্বশেষ আপডেট